৬০ 00৮৮০ পরী

পক সখা

| পণ্শাতণ সখা

০৭৮ পতিত গাজা ওটি এটি হা... শপ শ্পপপপসপপাপপ সপ সশ স্পা ভি

উৎসঃ জ্রীযুক্তবাবু শরচ্চন্দ্র ঘোষ, বি-এ) বি-এল

"পরত,

বাল্যকালে, স্কুল-প্রীঙ্গণে, তোমার যে ধধুময় ভাষে তামি আক হা ছিলাম, আজিও আমার নিকট তাহা মধুময় স্বতি বাচিয়া থাকুক, আছি! তোমার সেই বাল্য মধুর ভাব সন্ধে রাখিয়া, উত্তপ্ত, কঠোর, ১১০ সংসার-মরু,জরাজীর্ণ দেহ লইয়া, শাস্তি স্ুথে উত্তীর্ণ হইয়া যাই!

অনেক দুরিয়া, অনেক দেখিঙ্সা, এখন শ্রান্তশরীরে অবসন্ন মলে একটা কথা তোমাকে বলিয়া যাই 9--কথাটী এই, বাল্যকালের মধুর্.ভালবান! ওঁ স্নেহ যেমন মিষ্ট, সমস্ত জীবন-সাগর সেঁচিলেও তেন মিষ্ জিনিস দিলে ন1। এখন বন্ধু অনেক পাইয়াছি, কিন্ত সে সকল যেন জীবনশূন্ত বন্ধু, ঘেন গ্থার্থ- কাঠের ছবি,_-ভাবশৃন্, নীরস, কঠোর এপন কথা অনেক শিখিয়াছি, কিন্ত সে সকল শুষ্ক শবাড়ন্বর মাত্র,ভাহ। যেন প্রাণশূন্ত আর সেই বালাকাটৈ, সেই যৌবন-উধায়, আমরা দুইজন, ছুইজপ্লের পার্শে, স্কুল-ছুটা হইলে যে জীড়াইতাম, তখন কথা৷ ছিল না, অথচ ভাবের জমাট তরঙ্গ যেন উত্তয়ের' আঁশনিরনীতে উলিত হইত,_-ছুই জন কাষ্ট-পুত্তলিকাবৎ নীরবে যে দীড়াইডীদ, তাহাক্টে কতণ্নধুর ভাব-তরঙ্গ প্রবাহিত হইত। তুমি বাল্যকালে আমাকে ধর্শের' পণ দেখাইয়াছিলে, আর আজ বয়স-প্রান্তরে তুমি বা কোথায়,আমি বা কোথায়! আছে কি? কেবল মধুময় বাল্য-স্বৃতি। তাই বলি, স্থৃতি বাচিয়া খাকুক। স্বর্তি . না থাকিলে এতদিন মরিতাম

বপিতেছিলাম, সেই যে ধর্ষের পথে আনরা ছুইঞন ছুটিতে বাহির হা রম লাম,তারপর অনেক দর্শনের পর,অনেক পরীক্ষার পর,এই 'মাষি কে বুঝিডেছ কি? আমার সমস্ত লেখা,সমস্ত কথার ভিতরে আমার ধর্-সীবনক্ষাবয লিখিত রহিয়াছে আমাকে যদি বুঝিতে চাও, সমস্ত পড়িবে, অটািক খবি। রয়ে. ধারণ করিতে চাও, সকল কথা শুনিবে। আমি যে সকল কখা-বরিতেছি, সকল বলিতে বলিতেই যদি আমার জীবন শেষ হয়, সেই অনস্তধাষে, সেই মহিমাময় পুণ্যলোকে নয় আবার উভয়ের মিলন হইবে। শুনিতে আমন কর, আমি বলিক্পা যাই

ভুমি না গুনিলে আর শুনিবে কে? পৃথিবীতে লোক কি আর নাই ? আঁ

.বটে, কিন্তু আমার নিকট বাল্যকাল হইতে তুমি যেমন মধুর হইয়া আছ, এয়ন যিষ্ট, এমন মধুর এই পৃথিবীতে বুঝিবা আর কেহই নাই। মাযেঃ সস্তানের নিকট মধুর, স্তন যেমন মায়ের নিকট মধুর) স্বামী যেমন হী নিকট মধুর,এবং স্ত্রী যেমন স্বামীর নিকট মধুর; এমন আর কি পৃথিবীতে মিলে? মিলেলো বলিয়াই মাতৃ-প্রেমে মন্তান-বাৎসল্যে জগৎ ুগ্ব। মিলে ন! বলিয়াই দাম্পত্য-প্রেমে জগৎ আত্মহারা বলিব কি যে, তোমার বালা-প্রেম আমার নিকট সকল অপেক্ষা মধুর ! প্রেমের নিকট,রূপ,সৌনর্য্য তুচ্ছ,জ্ঞান-রিক্তান তুচ্ছ,ধন খর্ব তুচ্ছ। মানুষ আড়ম্বরশূন্ঠ ভাবে প্রেমে মজিতে চায়,কিন্ত সংসারের স্বার্থ তাহাতে বাধা দেয়। ভালবাসায় মজিবার সময় মানুষ কিছু গণনায় আনে না, কেবল প্রেমান্ধ হইয়া! ডুবিতে চায়। সেইরূপ ডুবাতেই স্ুখ। ভ্ণমি বাল্যে মাতৃ-হারা) আমি কেবল তোমার মধুর বাল্য-সখ্য-প্রেমে সঞ্ীবিত। তুমি, কেবল তুমিই আমার হৃদয় মন যেন পূর্ণ ভাবে গ্রাস করিয়া আছ। আর কেহ শুন্ুক বা না শুনুক, তুমি শুনিলেই আমি চরিতার্থ হই।

আমার কথা নীরবে শুনিয়া, সেই ৰাল্যকালের ন্যায় নীরবেই থাকিও। শুনিয়া শুনিয়া, তার পর মিলিতে চাও, আবার মিলিও। মিলিতে না চাও, দুরে দুরে, অতি দুরেই উভয়ে চলিয়! যাই। বাচিয়৷ থাকুক কেবল বাল্য- স্বৃতি, বাল্য-প্রেম, বাল্যধর্ম। বাচিয়া থাকুক সে সবই, যাহা কপট তা-শৃন্ত, যাহা করনা-শৃন্ঠ, যাহা জীবন্ত, যাহা গ্রাণম্পশী,-যাহা মধুর,যাহা মধুর তবে আজ যাই।

আনন্দ-আশ্রম। ] তোমার অকৃত্রিম স্নেহের ২৪শে কাণ্তিক, ১৩০২। দেবীপ্রসন্ন |

নদী গক্জারী কস চৌকি ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।

উৎকল

নাগরদক্গজম ঢাদবাল্ন |

উঠ্িঘা, প্রটান হিন্দ বৌদ্ধ কারিকলাপেক এক গ্রাটীন ছর্গ। আক দিকে, দউনে পতে অশোকের প্রশ্তবানগি অগ্রশামন, উদয়গিরিতে পাাহহ্গুব 2টি অনাথা শাচান গ্ুঠা, পবিআগিবি 19 খ্গিবিদ অক্ষয় এ, ফতনেশুলেক আনিনশুব অপুকা কাককাধাপূর্ণ প্রশ্থরনিশ্মিত গণনতেপা গাথা মন্দিবত বপানকেপ অপলা আকণ স্ব, জাজপুরের নিবা-মন্দিব, শু 5স্তপ্, সপুমাঠকা, ঘুষক্কিমণ্ূপ প্রচ্নতি এবং সর্ধোপরি উদান সার্কাভৌন পন্দন্দের পুক্ষোন্রমেব অপূর্ব পর্সমনষের বাপাব সকল দেখিলে উড়িব্যাকে হিন্দ রাজহেব চিরোক্ছল ধন্ইতিহাসের এক- থানি উত্কৃষ্ঠ ছবি বলিঘা মনে হয। অপব দিকে, চিল্কা হ্রদের ভপন্ধপ শোভা, মচেন্দ্রপন্নহশেণার অসত্পা পর্বতমালার বিচিত্র শোভা, এবং সর্বোপরি পুরাতটে বঙ্গোপসাগবেব মাশ্চধা ভবঙ্গ লীলা দেখিলে উড়িষ্যাকে

তর এক মক্ষয় শোভাব ভাগুবি বলিস! মান ভক্গ। উড়িধ্া, প্রাচীন কাকি প্রাকতিক সোন্দর্যের এক অক্ষর ভাগাব। নকল ধাহারা না দেখিয়াছেন, ভ্াছাদিগরকে বুঝান বড় কঠিন। কিন্তু মাচা দেখিরা লিঙ্গে মোহিত হইয়াছি, 'এব* অসণ্থা ব্যক্তি মোঠিত হইতেছেন, তাহার কথা আস্মীয় বন্ধুিগের নিকট প্রকাশ কবিতে সঃ ইচ্ছা হয়। আমরা জানি, চিত্র নিতান্ত অস্পষ্ট হইবে, কেন না, সে হুল কীর্ঠি অতুল শোভা ভাষার লিপিবদ্ধ হইবার নয় তবু মথাসাধা চেগ্া করিব।

আহা ১৭ই ফাত্তন (১২৯৫), দোলনারার অব্যবিত পুর্বে, রাত্রি

| আমণ-রতান্ত |

'্দাহুমানিক ১২ ঘটিকার সময় সি-গল (£9৪+8ঘ11) নামক জাহাজে আরো-. হপ করিলাম আমরা জাহাজে উঠিয়া দেখিলাম, জাহাজ লোকে পরিপূর্ণ ঃ_ ম্চন হইল, আরো পূর্বে আসিলে ভাল হইত স্ত্রী পুরুষের একূপ একত্র সমাবেশ, এরূপ ঘেঁষাঘেমি মেশামিশি ভাব আমবা পূর্বে আর কখনও দেখি নাই। তীর্ঘযাত্রীগণের সে উল্লাস, সে জীবন্ত উৎসাহ, সে কোলাহল-_ অনৈক দিন ভূপিতে পারিব না। যে যেখানে স্থান পাইয়াছে, জাহাজের উপর পড়িয়! গিয়াছে, কাহারও পাঁয়ের নীচে কাহারও মস্তক, পরম্পরের দেহে দেহে স্থ্চীভেদ্য যোগ-__আত্রাক্মণ চণ্ডালের শরীরের ধেঁধাঘেধিতে জাহাজে" তিলার্দ স্থান নাই। দেখিলে বোধ হয়, জাহাঁজ খানি শেন পুরুষোত্তমের এক উজ্জল ছবি ঠিক পুবীর হ্ঠায় এখানে জাতিতেদ নাই,__ ্রা্মণ চণ্ডাল এক অবস্থাপন্ন আর পাগ্ডাগণের খোসগল্প, উল্লাস, অঙগ-ভঙ্গি, যাত্রীগণের নিকট বীরত্ব প্রকাশ, জাহাজের সকলই শ্রীক্ষেত্রের নায় পথের নেতা পাগ্ডাগণ। জাহাজের কর্তীই যেন পাঁগাগণ। আমাদের সহিত কোন পাণ্ডা ছিল না;_স্থৃতরাং ক্ষণকাল আমরা স্থান পাইলাম না। শেষে অতিকষ্টে সঙ্গের বন্ধু একটু স্থান করিলেন। বলা বাহুল্য যে, অতি কষ্টে দেহ ছুখানিকে রাখিবার জন্য যে স্থান পাওয়া গেল, তাহার জন্য ঘন্মান্ত কলেবর হইতে হইল, এবং কিছু তীব্র ভর্সন| বা গালিগালাজ পধ্যত্ত সহিতে হইল। কেহ কেহ আমাদের সহিত বিষম ঝগড়া কঠিল। কোলাহলে সে রাত্রি আর নিদ্রা আসিল না। অতি কষ্টে রাত্রি চলিতে লাঁগিল। শুনিলীম, ৭০৭ আরোহী জাহাজে আরোহণ করিয়াছে

কিয়ৎক্ষণ পর একটা আশ্চর্যা ঘটন| দেখিলাম দেখিলাম, কয়েকজন লোক পুলীস যাইয়া! জাহাজে লৌক অন্বেষণ করিতেছে তাহারা যেন উদ্গাত্ত হইয়া গিয়াছে, অবিভেদে স্ত্রী পুরুষ সকলের মুখের আবরণ তুলিয়া দেখিয়। যাইতেছে ফান্তন মাসের রজনী, হিমের ভয়ে কেহ কেহ সুখাবৃত করিয়া নিদ্রাকর্ষণ করিতেছিল। জিজ্ঞাসা করিলে, সেই অনুসন্ধানকারী লোকের বলিল, একটা কুলবধূ এক বৎসরের একটা ছেলে ঘরে রাখিয় পলাইয়া আসিয়াছে, তাহাকে অনুসন্ধানের জন্য আসিয়াছি। ইহার পর পাণডাদিগকে নান! অশ্লীল ভাষায় গালাগালি দিতে লাগিল এবং অন্ুসন্ধান করিতে করিতে তাহাব। জাহাজের অগ্ত দ্রিকে চলিল। ঘটনাটী আমাদের হঘদয়ে বড়ই স্বাথাত করিল। কোলের ছেলে রাখিয়া মা মাসিয়াছেন !

সাগর্স্জম চাদবাণী।

ধর্মের জন্ত ?--সা আর কিছুর জন্ত ? যদি ধর্শের জন্ত হয়--সে মা দেবী আর যদি না! হয় ?--ভাবিতে পার! গেল না-__বড়ই ক্লেশ হইল। *

ভাবিতে ভাবিতে, কোলাহল গুনিতে শুনিতে, এত লোকের উঃ নিশ্বাস সহিতে সহিতে এবং থালাসী ঘাত্রীগণের গতায়াতের পদধূলি বহিতে বহিতে--সেই কষ্টের রঙ্তনী অবসান হইয়া আদিল। জাহাজের বাণী তীত্র আওয়াজ ছাড়িল, আগুনে ধূম উঠিল /_খালাসিগণ নোঙর তুলিল,_-অতি প্রত্যুষে জাহাজ কলিকাতা বন্দর ছাড়িল। ছাড়িবার একটু পুর্কেও জাহাজে যাত্রী উঠ্ঠিল। তখন ভাবিলাম, আমরা মূর্খ, সমস্ত রাত্রি বৃথা কণ্ট ভোগ করিলাম, শেষ রাত্রে জাহাজে উঠিলেই বেশ হইত!

জাহাজ চলিল; গ্রামের পর গ্রাম, তারপর গ্রাম-_সব ছাড়িয়া উদ্দাম কেছগ, ভীম গঞ্জনে অনন্ত সাগরের উদ্দেশে ছুটিল। রজনীতে যাহারা আমাদের সহিত ঝগড়া করিয়াছিল, দিবসে চক্ষুলঙ্জাবশতঃ তাহারা আমাদের সহিত আম্মীয়তা করিল, তাহারা বাঙ্গালী আমাদের পশ্চাতে একটা হিন্দু- স্থানী স্থান লইয়াছিল, সে রারেই আমাদিগের প্রতি সৎবাবহার করিয়াছিল শিয়রে ছুইজন উতৎকলবাসী লোক, ভাহারও আপনার হইল। দেখিতে দেখিতে বেল! ১৯টার সময় জাহাজ হীবকবন্দরে (10101750700 [৪,১০৪ ) উপস্থি হইল নদী ক্রমেই পরিসর বৃদ্ধি করিতে লাগিল আমর! অবাক্‌ হইয়া চত্ুদ্দিক দেখিতে লাগিলাম। তীর ক্রমে ক্রমে দৃষ্টিপথ অতিক্রম করিল, কূল অকূলে মিশিল। বেলা ছুই ঘটিকাঁর সময় আমরা কুল ত্যজিয়৷ অকুল বঙ্গোপসাগরের অগাধ নীল বারিরাধিতে ভাসিতে লাগিলাম। যাত্রীগণেয উল্লাস বাড়িল বটে, কিন্ধ সেকি জন্য, জানি না। উপরে অনস্ত আকাশ, নিম্নে অতল জল,--কেবল শন্দ, কেবল গর্জন, চতুর্দিকে কেবল নীলজল, কেবল নীলজল ! আমরা আর কখন সাগর দেখি নাই, আমর! সে দৃহা দেখিম্া মোহিত ভইলাম। সে দিন সদুত্র স্তির ছিলঃ আমাদের দেখিবার বিশেষ সুবিধা হইল কিন্ একটী দৃশ্য আমাদের ভাগ্যে দেখা ঘটিল লা। গুনিয়াছিলাম, সাগরের উত্তাল তরঙ্গের আঘাতে জাহাজ যখন অস্থির হয়, তখন শত শত ব্যক্তি পা ঠিক রাখিতে না পারিস্া শষ্যার আশ্রয় লয়, মাথা ঘুরণিতে অন্নপ্রাশনের অন্ন পর্য্যস্ত উঠিয়া পড়ে। কিন্ত আমর! সে দৃশ্ঠ

* ইহার নশঙ্ধে পরে শারও কথা ঘল] ধাইবে।

ভমণ-ত্বান্ত।

দেখিলাম না। সাগরের সৌনার্য্য প্রচুর দেখিলাম আর যাত্রীগণের বিকট চীৎকার, সমস্ত দিনব্যাপী কর্কশ সঙ্গীত শ্রবণ করিয়া কাঁণ ঝাঁলা পালা হইল। অবিশ্রান্ত তালমানশূন্ উদপীরিত গান শুনিয়া শুনিয়া সঙ্গীতের প্রতি ঘৃণা গম্মিল। আমরা অন্যমনন্ব হইয়া সাগরের অতুল শোভা দেখিতে লাগিলাম। অনেকক্ষণ পর দেখিলাম, সেই অকুল সাখরে একটী প্রকাও সর্প নির্ভয়ে পাড়ী ধরিয়া যাইতেছে কোথায় বা তার বসতি, কোথায় বা যাইবে, কতদূর " বা যাইবে, অকুল জল কত বা পার হইবে ১--আমরা ভাবিয়! ঠিক পাইলাম , না, গ্রাণে র্যথা পাইলাম, কিন্তু সে নির্ভয়ে তরঙ্গায়িত নীল জলরাশি'ভেদ করিয়া চলিতে লাগিল। তরঙ্গ দেখিতে দেখিতে, সাগরের গভীরতা ভাবিতে ভাবিতে, দিন শেষ হইয়া আসিল কৃর্ধ্য ক্রমে ক্রমে আরক্তিম হইলেন, ভয়ে যেন কম্পিত-কলেবর হইক্লেন। আহা, উপরের নেই অনন্ত নীলাকাশের সহিত নিয়়ের সেই অতল নীলজল মিশিয়া একাকার হইয়া গিয়াছে স্ুর্য্য আকাশ ছাড়িয়া সাগরে ডুবিতেছেন ! সমস্ত দিন জলিয়। জালাইয়া এখন যেন শীতল হইতে বাইতেছেন ! মানুষের অভিসম্পাতের ভয়ে লঙ্জায় আরক্তিম মুখ যেন লুকাইতে যাইতেছেন ! আর পূর্বের ন্যায় তেজ নাই। লোক সকল অনিমেষ নয়নে একদুষ্টে চাহিয়া দেখিতেছে, সাগর উচ্ছ,সিত তরঙ্গ-বাহ দ্বারা সর্যাকে আলিঙ্গন করিতে যেন ব্যস্ত হইয়াছে সে আলিঙ্গন, সে যুগ্ল-মিলন, সে মধুব প্রেমাবগাহন দেখিয়া বিধাতাকে শত শত ধন্যরাদ দিলাম পাহাড়ের অন্রভেদী শিরে হ্ষ্যাস্ত দেখিয়াছি, প্রান্থরের শেষ 'ীমায় হর্যোর রশ্মি ফেলিয়া হুধ্য পলায়ন করিয়াছেন দেখিয়াছি, গভীর অরণোর ভিতরে হুর্যোর শেষ জ্যোতি হারাইয়া ফেলিতেও দেখিয়াছি ; কিস্থ সাগর হ্র্যাকে থ্রাস করিতেছে, অথবা হূর্যা সাগরকে আলিঙ্গন করিতেছেন-- এমন মধুর, এমন মনোহব। এমন বিচিত্র দৃষ্ত আর দেখি নাই ধীরে ধীরে হুর্যয সেই উচ্ছসিত তনুঙ্গময় সাগর জলে অবগাহন করিলেন !! অপরূপ দৃশ্ত ! সাগরের মধ্যে একটী সন্ধা দেখিয়া আমরা নবজীবন পাইলাম শত শত নরনারী অস্তমিত সু্যকে লক্ষা করিয়। প্রণাম করিল আমরাও সেই সময়ে বিশ্বেখবরের অপার মহিম! দেখিয়া বারস্বার তাহাকে প্রণাম করিলাম। উড়িষ্যা যাত্রার প্রথম দিন, আমাদিগের নিকট স্বর্গের শোতার দ্বার যেন খুলিয়া দিয়া যাইল। আমরা গভীর ভাবে ডুবিলাম, আমরা মজিলাম | এই দ্বাস্ুপম স্বর্গীয় শোভা যখন শেষ হইল, এবং যখন অন্ধকার আসিযা সীগললস্

সাগরসঙ্গম টাদবালী।

(ক্রোড়ে করিয়া বসিল, যখন চতুর্দিকের উর্শিমালা মহা আঁধারে ডূবিল, তখন আমরা ক্ষণকাঁল চকিত নয়নে জাহাজের পারের জলরাশি শোতা৷ দেখিতে লাগিলাম। দেখিলাম, জাহাজের আঘাতে আঘাতে লবণাক্ত সাগর-জল কেমন এক অপূর্ব জ্যোতিকণা সকল বিকীর্ণ করিতেছে ৮_-জল যেন শত শত . নক্ষত্রের বেশ ধরিয়া জলিতেছে সেই রাশি রাশি ঈয়ং নীল ফেণার মধ্ো, জোনাকীর ন্যায় জলের ঝকৃমকী দেখিয়া প্রাণ যেন কেমন হইয়া গেল! আমরা আত্মহারা হইলাম। বেখিতে দেখিতে শেষে আর দেখিতে ইচ্ছা হইল না। আমর! সমস্ত রিনের ক্লান্তির পর একটু বিশ্রাম করিলাম। ইুভাবসরে রাত্রি প্রায় ঘটকার সময় বৈতরণী নদীতে জাহাজ প্রবেশ, করিল,_এবং অল্পক্ষণ পরেই চাদবালীতে জাহাঙ্গের লোক সকলকে অন্বতরণ করিতে হইল। মেই অপরিচিত স্থার্নে কোথায় যাইব, কোথায় থাকিব, ভাবিতে লাগিলাম ; এদিকে জাহাজের ালাসীগণের বিকট চিংকাঁন আতীল গান শুনিতে শুনিতে আমরা সেই বালিময় স্থানে দ্রবাপি লনা নামিলাম। অুটের সাহাযো একটি ঘর ভাড়া করিলাম।

'আমাদেব দেই হিন্দস্কানী ঘাতীবন্ধু আমাদের সঙ্গ ছাড়িল না)এক ঘরেই থাকিল। সে আর অন্বাগর হইল না-কষ্টে রজনী যাপন করিলাম

»প্রাভে টাদবালা দেখিলাম টাদবালীর নান অনেক দিন গুনিয়াছিলাম, কিন্য দেখিলাম, বৈভরণা নদী ভিন্ন গোনে দেখিবার উপযুক্ত আর কিছুই নাই। ৩খানি জাহাজের লোক সেদিন কটক যাইবার জন্য চাদবালীতে অপেক্ষা কারিতেছিল। সেখানে অনেকগুণি যাত্রী নিবাস আর চতুর্দিকে কেবল ধা 'অ।মর। প্রানে কোন প্রকারে আহারের কার্মাটা শেষ করিয়া কটকের জাহাজ ধবিবার চেষ্টা করিভে লাগিলাম; কিন্তু ছঃখের কথা কি বলিব, যে ক্রাহাজ ১০টার সময় ছাড়িবে, কথা ছিল, সেই জাতাজ ৩টার পূর্বে চাদবালা ছাড়ল না। এই ৪:৫ ঘণ্টা ট্টিমার-টিকিট-ঘরের পার্থ বসিয়া থাকিতে হইল টিকিট-বাবু এমন সঙ্ঠাবাদী, এপনই দ্রাহান্গ ছাড়িবে বলিয়া টিকিটের টাকা লইলেন, কিন্তু জাহাজ কিছুতেই এটার পুর্বে ছাড়িল না। পাছে, আমরা অন্য জাহাজে বাই, এজন্য বাবু এইন্রপ সত্য মবলঙ্বন করিয়া, আমাদিগকে নিদারুণ কর্য্যের "তাপে, এবং উত্তপ্ৰ বালুকণা দগ্ধ করিলেন। মনে ভাবিলাম, বাক্গাললী জাতি কহদিনে সন্যপ্রিন্ন হইবে!

জমণ-রভান্তি

পুরীর পাগ্ডা। পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা অতি অল্প। শিক্ষিত বা সত্য যাত্রী জাহাজে ছুই. চারিজন ভিন্ন নাই ধাহারা উপরে বসিরাছিলেন,. তাহার! কটকের লোক তছিন্ন ঘারও কয়েকটা ভাল লোক দেখিলাম তাহাদের মি হালি, মধুর সঙ্গীত, দি কথা এই লোক-মরুভূমির মধ্যে অনেকটা শাস্তি দিল। আমাদের প্রত্তি, কি জানি কেন, জাহাজের লোকেরা একটু সর্ব ব্যবহার করিল। আমরা বে কামরার ছিলাম, সে কামরার অযোধ্যার কোন তালুকদার-পর্ী পর্দার আড়ালে ছিলেন। তাহার সঙ্গের ১৫২০ জন দাস দাসীও সেই কামরায় ছিল। আমাদের অপর পার্খে, ঠিক সম্মুখে, একটা আশ্চর্য্য দৃশ্ত-_চারিটি অল্পবন্স্কা বাঙ্গালীর মেরে, সঙ্গে ২৩ জন পাণ্ডা একটি মাত্র বৃদ্ধা স্ত্রীলোক তাহাদের পরিধেয় বস্ত্র ভূষণাদি দেখিয়াই তদ্রথরের মেয়ে বলিয়া মনে করা গের্স। আমরা তাহাদিগকে এরূপ অসহায় অবস্থায় দেখিয়া একটু বিস্মিত হইলাম এবং সসন্তরমে অপর পার্খে আমাদের যৎসামান্ঠ বিছানা বিস্তার করিয়া বিশ্রাম করিতে লাগিলাম। ইতিমধ্যে অযোধার তালুকদার-পড়ীর সঙ্গীয় দুইজন দাসী বাঙ্গালীর মেয়ে কয়েকটিকে বড়ই অপ- মান করিল। ঘটনাটি আমার সঙ্গের বন্ধু দেখিয়া মর্মে বড় আঘাত পাই- লেন। দেখিলেন, অপমান সহা করিয়া মেয়ে কয়েকটি জড়সড় হইল, কিন্তু অঙ্গে এমন লোক নাই মে; কেহ ইহার প্রতিবিবান করে। বন্ধ জদয়ে আঘাত পাইয়া আমাকে ঘটনাটি বলিলেন। পরমর্শ ঠিক করিয্না, আমরা মের্েদের সঙ্গের পাগ্ডীকে ডাকিয়া সবিশেষ জিজ্ঞাসা করিলাম পাঁণ্ডাকে বখন ডাকিয়া সবিশেষ জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলাম, আমি চাহিয়া দেখিলাম, সেই সময়ে বৃদ্ধা বড়ই বিরক্ত হইডেছেন। দেখিয়। আমার মনে বড়ই সন্দেহ জন্মিল। পাগ্ডার উত্তর গুলিও বড় গোলমেলে বলিরা বোধ হইল। মেয়েদের সহিত অভিভাবক নাই কেন, কেমন করিয়া ইহারা আদিল, কোথা হই! ইহাদিগকে পাইলে--এ সকল কথার কোনই সন্তোষজনক উত্তর দিতে পাঁরিল না। নিকটস্থ একজন পাণ্ডাকে দেখাইয়। বলিল, পাণ্ড সবিশেষ জানে সে পাগডাকফেও ডাকা হইল। ' সে নানারূপ অযৌক্তিক এবং অসত্য কথা বলিতে লাগিল। এই গোলমালের সময় সেই বৃদ্ধা পাগাদিগকে ডাকিয়া তীত্র . ভত'দনা করিল এবং বলিল, “বল যে আমবা গণেশ পাগ্ডার যাত্রী, তোমরা গৌলমাল কর তভাহাকে টেলিগ্রাম করিব :” মেয়ে বুদ্ধি চমৎকার, মনে করিল, ইহাতেই আমরা ভষ পাইব। বড় ভয়ের কথাই বটে! হাহাদের

কটকের পথে

ভাবভঙ্গি দেখিয়া আমাদের ক্রমে বড়ই সন্দেহ জম্সিল। বৃদ্ধার সহিত অনেক, কথাবার্তা হইল, কিন্তু সে মুহূর্তে মুহূর্তে নানা রকম মিথ্যা কথা বলিতে লাগিল। আমরা ধুঝিলাম, এই মেয়ে কয়েকটীকে নানা প্রলোভন দেখাইয়া চক্রান্ত করিয়া লইয়া যাওয়া হইতেছে এই সময়ে মেয়েদের মধ্যেও পরম্পর কথাবার্তা চলিতে লাগিল তাহাতে বুঝা গেল যে, অতিভাবক সঙ্গে যাইবে, এই কথা বলিয়া বৃদ্ধা ইহাদিগের মধো কোন কোন মেয়েকে আনিয়াছে; কিন্ত কোথাকার মেয়ে, কিছুই বুঝিতে পারিলাম না। পূর্বে গুনিয়াছিলাম যে, একশ্রেণীর লোক, ভদ্রঘরের মেয়েদিগকে তীর্থের ছলনায় ভুলাইয়া, ঘরের বাছের করিয়া, নানা প্রলোভনে ফেলিয়া চরিত্র নষ্ট করে। যখন তাহার! কুলে উঠিতে পারে না, তখন আত্মীয় পরিজনের মায়া পরিত্যাগ করিয়া বাজারের দলে প্রবেশ করে। যাহারা এই দ্বণিত কার্য্যের ঘটকালি করে, তাহারা মধ্য হইতে বেশ দশ টাকা উপার্জন করে। এই ব্যবসা দেশে পিন দিন বৃদ্ধি হইতেছে, এদেশে কন্তাবিক্রয় প্রথা দিন দিন বাড়িতেছে, এই কথার সহিত বর্তমান ঘটনাটার বড়ই মিল হইল কিন্ত আমাদের কিছুই করিবার শক্তি নাই, নীববে সেই বিষাদময় চিত্রের ধারে বসিয়া ইহাদের কাধ্যাদি পরীক্ষা করিতে লাগিলাম। | সমস্ত রাত্রি যে সকল ঘটনা হইল, তাহা আর লিখিতে ইচ্ছা করে না। দেখিসাম, সেই পা ছুটী মেয়েদের গ! ঘেসিয়া বসিতেছে, মুখে পান তুলিয়! দিতেছে, কখনও হাত ধরিতেছে, রসের হাসি হাসিতেছে, কখনও মেয়েদের গা ঠেসিয়া শুইতেছে। একটা মেয়ে স্ত্রীজনোচিত লজ্জা গ্রযুক্ত পাণ্ডার সহিত এক বালিসে গুইতে চায় না বলিয়া বৃদ্ধার দ্বার! গুব তিরম্কত হইল |. এই রূপ, নানা ঘটনা দেখিয়! প্রাণে বড়ই ব্যথা পাহলাম। মেয়েদের মধ্যে ছটাকে একটু শান্তপ্রক্কৃতি পবিত্রস্বভাব বলিগ্না বোধ হইল, আর ছটার চরিত্রে দোষ স্পর্শিয়াছে, অনুমান হইল তাহাদের পরস্পরের কথাবার্কা শ্রবণ করিয়! ক্রোধে হৃদয় উত্তেজিত হইল। কিন্তু কি করিব, আমর! নিরুপায় ছুই একবার পাণ্ডার্দিগকে ভতদগনা করা ভিন্ন আর কোন উপায় পাইলাম না। রাত্ৰি ৯টার পর আমাদের জাহাজ এলবা (১18) দ্বার দিয়! কেন্জ্রাপাড়া. খালে প্রবেশ করিল। বাঙ্গলান্ব যেমন রেলের কীর্তি; উড়িব্যায় সেই দ্ূপ খালের কীর্তি উড়িষ্যার বড় বড় নদী সকল পাধিয়া, সেই সকল নর্দীর জল থাল দিয়া চালান হইতেছে খালের দ্বাবা যাতাষাহের জবিধা হইয়াছে,

জমধ-রতান্ত |

খানের জলের ঘারা কৃষিকার্যের অনেক উৎকর্ষ সাধিত হইতেছে, এবং ' নিকটবর্তী লোকদিগের জলের কষ্ট নিবারিত হইতেছে গবর্ণমেন্টের এক অপূর্বব কীর্তি। উড়িষ্যার হিন্দু রাজত্বের স্থৃতিময়ী যে সকল অক্ষয় কীন্তি আছে, সেই কীর্চির পার্থে ইংরাজ রাজত্বের কীর্তি নিতান্ত সামান্য নয়। পার্ধতীয় প্রদেশের' নর্দীর জল এরূপ বাঁধা না পড়িলে কোন কার্যেরই উপ- যোগী হইত না-_সামান্ত ঝরণার ন্যায় বহিয়া সাগরে পড়িত। কিন্তু ধন্ত ইংরাজ-ুদ্ধি__মরুতূমিকে শীতল বারিতে পরিপূর্ণ করিয়া উড়িষযায় কি অপূর্ব মহিম! প্রকাশ করিয়াছে!

কটকের একদিকে কাঠজুরী অন্য দিকে মহানদী। কাঠজুরী মহানদীর শাখাবিশেষ। মহানদী হইতে যে স্থানে কাঠজুরী পৃথক হইয়াছে, তাহার নিকট একটা বাধ আছে। মহানদীতে অ্রেবার নিকটে আর এক প্রকাণ্ড বাধ দেওয়। হইয়াছে এই সকল বীধের নাম এনিকট (4120 জেব্রার নিকট নদীর প্রসার প্রায় ছুই মাইল হইবে। ইহার উত্তরে মহানদীর অন্ত শাখা বিরূপাতে আর একটা বীধ দেওয়। হইয়াছে। মহানদীর প্রবাহিত জলরাশি এইরূপে বীধত্রয়ে আবদ্ধ হইয়া, তালদণ! খাল, কেন্দ্রাপাড়া খাল, এবং হাইলেবেল খাল ( ভদ্রক পর্য্যন্ত যে খাল গিয়াছে ) দ্বারা প্রবাহিত হইতেছে জলের সমতা রক্ষা করিবার জন্য এবং নৌকা প্রভৃতি যাতায়াতে জল নিঃশেষ না হয়, এই জন্য, এই সকল খালে মধ্যে মধ্যে ( লক্‌গেট ) কপাট-দ্বার* কর! হইয়াছে। বাগবাজারের খালের কপাটা দ্বারের ন্যান্ব এই সকল থালে অসংখ্য লক্‌গেট আছে এই সকল গেট পার হইতে অনেকটা সময় লাগে। এই সকল গেটের নিকটে জাহাজ আসিলে, আরোহীগণ মলমৃত্র পরিত্যাগ করিবার জন্য তীরে অবতরণ করে রাত্রে যখন জাহাজ এইরূপ গেটে গেটে লাগিতে লাগিল, তখন মেয়েরা পাগাদের সহিত ছই তিন বার কুলে উঠিল। অল্পবরস্থ। বাঙ্গালী তদ্রলৌকের মেয়েদের এরূপ স্বেচ্ছা- বিহার, পুরুষের সহিত একপ স্বেচ্ছামিলন, এক্নপ স্বাধীনভাবে কথোপকন, তীর্থপর্ধ্যটনের সমন্ন ভিন্ন আর কুত্রাপি দেখিতে পাওয়া যায় না যে সকল নামধারী পাণ্ডারা দেশে আগমন করে, তাহাদের অধিকাংশই পাগাদের বেতনভোগী গোমস্তা মাত্র ফেহ ১৯, কেহ ২২, কেহ ৩২ টাকা কেহ ঝ! তদুষ্ধ বেতন পাইয়া খাকে। ইহারা সাধারণতঃ অশিক্ষিত। ইহারা বাহিক ধর্ষের চটক তিলক মালা প্রভৃতি ধারণ ভিন্ন আর কিছু ধর্শ-কারধ্য করে বলিয়া

কটকের পথে। ১১

জানি না। সন্ধ্যা আক্িক করিতে কাহাকেও দেখি নাই। ইহাদের চরিত্রের , প্রধান গুণ এই যে, ইহারা সামান্ত ভূত্যের তায যাত্রীদিগের. সেবা করে সেই সেবার খাতিরে যাত্রীদের সহিত ইহাদের এত ঘনিষ্টত| জন্মে যে, যাত্রী- মেয়েদের আর অধিক কিছু অনিষ্ট না হইলেও, স্ত্রী-জনোচিত লজ্জা শরম, বিনয়, গুর্তমর্ধ্যাদা প্রভৃতি ইহাদের কোমল মধুর চরিত্রকে একেবারে পরিত্যাগ করে। তীর্থ স্থান ভ্রমণ করিলে অন্নবরস্কা মেয়েরা যে চঞ্চল হক, অস্থিরমতি হয়, লঙ্জাহীন হত, সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। যাহারা একবার তীর্থ ভ্রমণ করিয়াছে, তাহাদিগকে ঘরের কেন্দ্রে বাধিয়া রাখা বিষম দায় তীর্থের মধ্যে প্রধান তীর্থ শ্রীক্ষেত্র। এখানে এক দিকে হিন্ুধর্ের সর্কোজ্ছল উদার পবিত্র ভাব রক্ষা পাইতেছে, দেখিলে যেমন আনন্দ হয়, মন্দিরের অসংখ্য অন্লীল, কুরুচিপূর্ণ স্ত্রী পুরুষের সঙ্গম-ছবি' দেখিলে তেমনি মায়ুষের মন দ্বায় পরিপূর্ণ হয়। এমন ত্বণিত ছবি মানুষের কমনায় সৃষ্ট হয়, তাবিতেও কষ্ট হয় কিন্তু শুনিলাম, উড়িষ্যায় এই সকল তব নাকি শিক্ষানীয় বিষয়, জানিনা কখা কতদূর সত্য। যাকৃ, পাগডাদের লজ্জাশরম- শৃন্ত ব্যবহারেও যাহার! পবিত্র থাকিতে পারে, তাহারা এই ফল কদর্ধ্য ছবি দেখিলে কেমনে যে লজ্জা শরম রাখিয়া! বাড়ীতে ফিরিবে, বুঝি না। সে সকল ছবির কথা স্থানাস্তরে বর্ণনা করিব। সে সকল ছবির অঙ্গীল ব্যাখ্যা শুনিলে শরীর ক্রোধে উন্মত্ত হইয়া উঠে। সেই সকল ছবির ব্যাখ্যা এইক্ষপ- .পএই দেখ, ভগবান এক সখীর সহিত লীল! করিতেছেন” লীলা যে কিরূপ জন্য, ভাই ভথ্মী, পিতা পুত্র মিলিয়৷ তাহা দেখিবার যে! নাই। যাহার! অল্পবয়স্কা মেয়েদিগকে তীর্থে প্রেরণ করেন, তাহাদিগের বিশেষ সতর্ক হওয়া উচিত। ভারতের তীর্থ স্থানের অবারিত মুক দ্বার সমূহ যুবতী বিধবাদের প্রতি রুদ্ধ হইলে বুঝি বা ভারতের স্বৈরিণীর সংখা! অনেক হ্রাস হইত। ধর্তের নাষে তীর্থস্থান সমূহে অধর্শ, নানাক্ষপ প্রবঞ্চনা বিক্রীত হইতেছে দেখিলে অবাক্‌ হইয়া যাইতে হয়।

সেই ছুঃখের নিশিতে পাঁগাদের নানারূপ কদর্ধ্য ব্যবহার দেখিতে হইল--. এবং শ্লানচিত্তে সহ করিতে হইল, কেন না, আর উপায় ছিল না। রাত্রি প্রভাতে আমর! আর একটী লক্‌গেটের তীরে যাইয়া পরামর্শ করিতেছি, এমন সময় সেই বৃদ্ধ! ছুটিয়া আমাদের নিকট উপস্থিত হইল। বলা বাহুল্য মে, তাহাদের মনে নানাপ্রকার আশঙ্কা উপস্থিত হইয়াছে। বৃদ্ধা

১২ ভমণ-রত্বান্ত |

আসিয়া, অযাচিতরূপে, বুথ! অনেক সাফাই সাক্ষী মানিতে লাগিল যে সকল কথা বপিল, তার মধ্যে একটা কথা এই, “মেয়েরা তীর্থ দেখিবার জন্ঠ পলাইয়া আসিয়াছে, আমি ইহাদিগকে চুপি করিয়া আনি নাই। ইহার মধ্যে একটী মেয়ে এক বৎসরের একটি কোলের ছেলে রাখিয়া আসিয়াছে, ইত্যাদি ।” এই কথাটা শুনিয়া আমরা অবাক্‌ হইলাম আমা" দের সকল সনোহ দূর ইইল। কলিকাতাঁর ঘাটে লোকেরা যে কুলবধূকে অনুসন্ধীন করিয়াছিল, বুঝিলাম, সে কুলবধূ ইহাদের মধ্যে একজন। কি সর্বনাশ! কোলের ছেলে ফেলিয়া মা, প্রলোভনে পড়িয়া, এই নর-পণ্ সম বৃদ্ধার সহিত আসিয়াছে? কি সর্বনাশ! বৃদ্ধাকে অনেক তিরস্কায় করিলাম জাহাজে ফিরিয়া আসিয়া বধূকে সম্বোধন করিয়াও অনেক ছুঃখের কথা বলিলাম তার পর উপরে যেছুটা ভদ্রলোক বসিয়াছিলেন, তীহাদদের সহিত পরামর্শ করিতে গেলাম। যাইয়া দেখিলাম, সেখানে আরে! ছুটা ভদ্রলৌক বসিয়। রহিয়াছেন। তাহাদের নিকটে শ্রীযুক্ত এন, ঘোষ প্রণীত কৃষ্ণদাস পালের একখানি জীবনচরিত রহিয়াছে দেখিয়া! তাহাদিগকে শিক্ষিত বলিয়া বুঝিলাম। তাহাদের নিকট কলিকাতার জাহাজের সেই অন্ুসন্ধান-সংবাদ এবং এই জাহাদের পূর্বা রজনীর সমস্ত কথা সংক্ষেপে বিবৃত করিলাম। অনুসন্ধননে জীনিলাম, নবাগত ব্যক্তি ছুইজন স্কুল সব্‌ ইনম্পেক্টর, নাম রতুবাবু চন্ত্রবাবু। ইহীরা আমার নাম জিজ্ঞাসা করিলেন। ভাবে বোধ হইল, ইহীরা আমাকে চিনিতে পারিলেন। সমস্ত ঘটন! শুনিয়া তাহারা শিহরিয়া উঠিলেন। তীহারা ইহার উপায় করিবেন, আশা দিলেন, এৰং নিয়ে আসিলেন। তাহাদের সে সহৃদয়তা, সে সদাশয়তা, বাঙ্গালী মেয়েদিগের সতীত-রক্ষার প্রতি একান্ত অনুরাগ দেখিয়া আমরা মোহিত হইলাম। তাহারা নীচের ঘরে আসিয়া পাগডাদের নাম, মেয়েদের নাম, বাড়ীর ঠিকান। প্রভৃতি লিখিয়া! লইলেন। জাহাজের মধ্যে আঁমাদের কামরায় যেসকল লোক ছিল, তাহার! প্র পাগাদিগের অবৈধ ব্যবহারের তীত্র প্রতিবাদ করিতে লাগিল। কোন কোন সহ্ৃদয় পাণ্ডাও সেই তিরস্কারে যোগ দিয়া বলিতে লাগিল “এই নরাধম ছুষ্ট পাগডাদিগের অত্যাচারে জগঘন্ধুর নাষু লোপ পাইতে বসিল, আর কি কেহ আমাদিগকে বিশ্বাস করিবে ? কিন্তু অন্ত কামরার দুই তিন জন পাণ্ডা আনিয়। ছই পাষণ্ডের সহিত যোগ দিয্াা আমাদের নাম ধাম লিখিয়। লইতে চেষ্টা করিতে লাগিল। জাহাজে

কটকের পথে ১৩

_ খুব গোলমাল উপস্থিত হইল দেখিয়! তীত্র ভৎপনায় তাহার! নিরন্ত হইল। বেগতিক দেখিয়া বৃদ্ধা তখন খোসামুদী আরম্ভ করিল। বলিল, “বাব! তোমরা আমার পুত্র আমাদের সহিত পুরী পর্যাস্ত চল, তোমরা বা বলিবে, তাই করিব» মেয়েদ্িগকে বলিল "তোমর! ইহাদিগকে প্রণাম কর, ইহারা তোমাদের পিতৃতুল্য |” এইরূপ নানা: ধোসামুদীস্চক কথ! বলিতে লাগিল। আমরা বৃদ্ধাকে মেয়েদিগকে অনেক প্রকার উপদেশ খিলাম। তখনও আমর! তাহাদিগকে আবদ্ধ করিতে পারি না,-কারণ, আমাদের কোনই অধিকার নাই। অতি অল্লক্ষণ পরেই জাহাজ কটকের খাটে পৌছিল। যে স্থানে জাহাজ লাগিল, সে স্থানের অতি অপুর্ব শোভ|। প্রশস্ত- হৃদয় মহানদীর আবদ্ধ জলরাশি কটকের এই স্থানকে অতুল শোডভায় ভূষিত করিয়াছে। নদীর অপর পার্থে অসংখ্য পাহড়ে-শ্রেণী। এই অপূর্ব দৃশ্ দেখিয়া আমরা মোহিত হইলাম। যাত্রীদের কটক প্রবেশ করিবার অধিকার নাই। তাহাদের জন্য কটকের চারি মাইল দুরে নয়াবাজার প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। ওলাউঠার আক্রমণ হইতে কটককে রক্ষা করার জন্তই এই বিধান হইয়াছে যাত্রীর! সেই দিকেই চলিল, আমরা গম্যস্থানে চলিলাম। কিস্ত মন নানা উদ্বেগে পরিপূর্ণ রঘুবাবু গাড়ী করিয়া আমাদিগকে নির্দিষ্ট স্থানে পৌছাইয়া দ্রিলেন। তিনি যেন আমাদিগের সাহায্য করিবার জগ্যাই কেন্দ্রাপাড়া গিগ্রাছিলেন। বিদেশে যাহার নিকট যে সাহাষ্য পাওয়া যায়, তাহা চিরকাল মনে থাকে বাবু রঘুনাথ দাসের সহৃদয়তা মধুর ব্যবহার আমরা জীবনে কখনও ভুলিব না। বিধাতা তাহার মঙ্গল করুন।

কটকে বাবু মধুসথদন রাও একজন সদাশয় এবং মহাশয় ব্যক্তি। তাহার বাটাতেই আমরা আশ্রয় লইলাম। তাহার বাড়ীতে যাইয়াই সমস্ত পথের কথা তাহাকে বলিলাম তিনি তখনই পুলিসের কোন পরিচিত লোকের নিকট লোক পাঠাইলেন। কিন্ত লোক তখনই ফিরিয়! আসিঙ্স! বলিল যে, তিনি যেন কোথায় গিয়াছেন, আরে! বলিল যে, কোর্ট ইনস্পেক্টর নারাদ্ণ বাবুকে সমস্ত কথা বলিয়াছি, তিনি এই বাবুদিগকে কাছারীতে যাইতে বলিয়াছেন তিনি সবিশেষ অবগত হইলে ইহার প্রতিবিধানের উপায় করি- বেন। আমর! তখনই কয়েক গ্রাস অন্ন মুখে দিয়া কাছারী গমন করিলাম নারায়ণ বাবুর উৎসাহ দেখিয়| আমর! বিস্মিত হইলাম। “পাণ্ডারা দেশের একমাত্র গৌরব স্ত্রীজাতির সতীত্ব লোপ করিল, ব্যাটাদের শান্তি না দিলেই

১? ভমণ-রগান্ত |

ময়” এইরূপ নানা উত্তেজনা পূর্ণ কথা বলিয়া, তিনি আমাদিগকে লইয়া, আর ছুই জন পুলিস ইনস্পেকটরের নিকট গমন করিলেন। তাহারা অসহায় মেরেদের উদ্ধার করিবার জন্য একটু ইতন্ততঃ করিতেছেন দেখিয়া, নারায়ণ বাবু একেবারে জয়েন্ট ম্যানিষ্ট্েট সাহেবের নিফট গমন করিলেন। সহদয় জয়েন্ট ম্যানিষ্রেট সাহেব তখনই বিষয়টা অনুসন্ধান করিতে গুলিসের উপর ভার দিলেন। অতি অলপ সময়ের মধ্যে পুলিস ইনস্পেক্টর, নারায়ণ বাবু চুই'ন কনষ্টেবলের সহিত আমর! নয়াবাজার অভিমুখে গমন করিলাম সেখানে যাইয়া! দেখিলাম, সেই মেয়ের দল পুরী যাইবার জন্ গাড়ী প্রস্তত করিয়াছে, এবং রন্ধনের আয়োজন করিতেছে। পুলিসের নিকট সকল গংবা প্রকাশ হইয়! পড়িল। ইহাদের বাড়ীর ঠিকানা গাওয়া গেল। সেই কুলবধূর স্বামীর নাম জান! গেল, কিত্ত বৃদ্ধা নান! মিথ্যা কথ স্থজন করিয়া! বলিল যে, জাহাজে যে মেয়েদিগকে লোকের! অনুসন্ধান করিয়াছে, আমর! তাহার! নই, আমাদিগকে বাড়ীর লোকের! জাহাজে তুলিয়া দিয় গিয়াছে। ইহার পর পুলিস তাহাদিগকে অনেক ভ্সন! করিল। কেন এই রূগ অভিভাবক-শূল্ত অবস্থায় তোমরা আসিয়াছ, বৃদ্ধ! কথার কোন উত্তর দিতে পারিল না। কিন্ত আমর! বড় গোলে পড়িলাম ; ইহারা সেই মেয়েরা! কি না, আমরা নিশ্চয় করিয়! কিরূপে বলিব? সুতরাং পুলিস -/0 টেলিগ্রাম করিতে বলি- লেন। এদিকে তাহারা আর এক দিনও অপেক্ষা করিল না, মেই দিনই পুরী যাত্রা করিল। তখনই নারায়ণ বাবুর সহিত একব্রিত হইয়া মধু বাবুর বাড়ী আমিয়! সেই কুলবধূর স্বামীর নিকট, কলিকাতা, বহুবাজার, হাড়কাটা! গলিতে টেলিগ্রাম করিলাম। ছুই দিনের মধ্যে টেলিগ্রামের এই রূপ উত্তর পাওয়া গেল যে, “তাহার! গলাইয় গিয়াছে, তাহাদিগকে আবদ্ধ করিবেন ।” আমরা যখন এই মর্ের টেলিগ্রাম পাইলাম, তখন তাহারা পুরীতে গিয়াছে। টেলিগ্রাম পুলিসকে দেখাইলাম, তাহারা ভিন্ন এলাকার লোক, গ্রেপ্তারের ভার গ্রহণ করিলেন না, আমাদের পরিশ্রম চক্ষের জল ফেলাই সার হইল। ছরতদিগের হস্ত হইতে কুলবধূদিগকে রক্ষ/ করিতে পারিলাম না, ছুঃখ জীবনে ঘুচিবেন!।

কটক।

পরবর্তী বর্ণনার সাহাব্যার্থ আমরা এস্থলে উড়িষ্যার ইতিহাসের অতি সংক্ষিপ্ত একটু বিবরণ দিলাম। |

উড়িষ্যার বর্তমান রাজধানী কটক। উড়িষ্যার ইতিহাস নানা আশ্চর্য্য ঘটনা পূর্ণ। ছুই সহ বৎসর পূর্ব্ব হইতেই উড়িষ্যা ভারতবর্ষের মধ্যে পবিত্র ধর্-ক্ষেত্র বলিয়া.পরিচিত। বাঙ্গাল! প্রেসিডেশ্নির মধ যে তিনটা বিভাগ, তম্মধো প্রাচীন কীর্তি, এবং প্রার্কতিক সৌনর্ষ্যে উড়িষ্যা সর্বশ্রেষ্ঠ পুরীর . জগন্নাথমন্দিরে অতি প্রাচীন সময় হইতে যে মাদলাপাঞ্জি সবরক্ষিত হইয়াছে, ' প্রাচীন ইতিহাসের এরূপ উজ্জলতম স্ৃতিচিহ্ন ভারতবর্ষে আর আছে কি না, জানি না। খ্বীষ্ট জন্মের ২৫ বৎসর পূর্বে অশোক উড়িষ্যায় রাজদণ্ড পরি- চালন করেন। ললিতগিরি, খণ্ডগিরি ধউলি পর্বতে অশোক শাসনের বৌদ্ধধর্মের যে সকল অক্ষল্নবীর্ঠি-চিহ্ন বিদ্যমান রহিয়াছে, যথা! স্বানে তাহার বিষয় লিপিবদ্ধ করিব। মাদলাপাঞ্জি অনুসারে অশোকের পর ৩১৯ খীঃ পৃঃ (৪. ০.) হইতে ১৮০৩ খ্রীষ্টান পর্য্যন্ত বিভিন্নবংশীয় ১০৭ জন রাড! উড়িষ্যায় রাজত্ব করেন। এই সময়ের মধ্যে ক্রমান্বয়ে কেশরী বংশ, গঙ্গাবংশ, পাঠান, মোগল, মহারাষ্ট্র শাসন সংস্থাপিত বিলুপ্ত হইয়াছে কেশরী গঙ্গাবংশ উড়িষ্যার সিংহাসনে অধিরোহণ করিয়া! যে সকল কীর্টিস্বস্ত প্রতিষিত করিয়া গিয়াছেন, তাহার সমতুল্য হিন্দুকীর্তি ভারতবর্ষে অতি বিরল। ভুবনেশ্বর যাক্সপুর (যজ্ঞপুর ) কেশরী বংশের প্রধান রাজধানী ছিল। এই উভয় স্থানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ স্থানাস্থরে সঙ্গিবেশিত হুইবে। কেশরীবংশ শৈব ছিলেন। ভুবনেশ্বর শিবধাম এবং যাজপুর পার্বতীধাম। ৪৭৪ পরী্টান্ম হইতে ১১৩২ শ্বীষ্টান্ম পথ্যন্ত কেশরী বংশ রাদ্ত্ব করেন। এই সময়ের মধ্যে ৪*টা পুরুষ লোপ পান্ন। ৬৩ জন রাজ! রাজত্ব করেন। ইহাদের রাজত্ব কালের অব্যবহিত পূর্বে বৌদ্ধধর্মের একান্ত প্রাছ্ভাব ছিল বলিয়া, ইহাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত দেব দেবীর মৃত্তি গুলি বৌদ্ধমৃষ্তির ছায়াতে নির্শিত। এই বংশের রাজত্বের শেধাংশেই কটক সহর রাজধানীতে পরিণত হয় মকর কেশরী কটকের বিখ্যাত কাঠজুরী বাধ নির্্া করেন |* এই বংশের রাজ। যযাতিকেশরী জগক্লাথ স্থাপন করেন (৪*৯ শকাবে )। যে সকল পুরাণে গ-

ক. [01668 011882) ৮০1], ৮289 6১9 ৮০666

১৬ ভমণ-বভান্ত

লাখ দেবের কথা আছে, সে সমস্তই ইহার পরবর্তী এই বংশের রাজা লা টেন্দ্র কেশরী ভুবনেশ্বরের মন্দির নির্শাণ আরম্ভ করেন। ৫০০ধীষ্টাবে মন্দির নির্দাণ আরভ্ত হয়, ৬৫৭ খাবে শেষ হয়। ক্রমান্বয়ে পুরুষের ১৫৭বৎসর- ব্যাগী পরিশ্রমে এই মন্দির নির্মাণ শেষ হয়। অবিচলিত অধ্যবসায় বংশগত ধর্্মান্থরাগের ইহা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট উদাহরণ পৃথিবীতে আর নাই সপ্তম শতা. বীতে যাজপুর এই বংশের প্রধান রাজধানী ছিল। এই বংশের আদি সম্বন্ধে পুরাতত্ববিদ্‌পণ্ডিত শ্রীযুক্ত বাবু কৈলাসচন্দ্র সিংহ মহাশয় এইরূপ লিখিয়াছেন।

“জনমেজয় দেব মাদলাপাঞ্জির মতে যযাতি কেশরীবংশের স্থাপয়িতা। বংশাবলী লেখক যযাতির পিতা! চন্ত্রকেশরীকে এই বংশের স্থাপনকর্তা লিখি; পাছেন। যযাতির জন্মদাতার নাম সম্বন্ধে বংশাবলী লেখকের কিঞ্চিৎ ভ্রম হইয়া থাকিলেও আমর! তাহার বাক্য প্রকারান্তরে সত্য বলিয়া স্বীকার করিতে পারি বোধ হয়, চন্দ্রবংশীয় আদি কেশরী এই প্রবাদ অবলম্বন করিয়া বংশাবলীলেখক জনমেজয়কে চন্দ্রকেশরী লিখিয়াছেন।

যযাতির তাত্রশাসন পাঠে জ্ঞাত হওয়া যায় যে, তাহার পিতা জনমেজজ ভূজবলে “যবনদিগকে” জয় করিয়৷ মহানদীতীরস্থিত চৌছুয়ার নগরে রাজ- পাট সংস্থাপন পূর্বক প্রবল পরাক্রমের সহিত উড়িষ্যা শাসন করিয়াছিলেন সন্বলপুরে প্রাপ্ত তাত্রশাসন পাঠে অন্ুমিত হয়, রাজ! জনমেজয় মগধ রাজ- দণ্ডের অধীন ছিলেন। দত্ত-কুমীর হেমমালা! বুদ্ধদস্ত লইয়া উড়িষ্য। হইতে পলায়ন করিলে, রক্তবাহু তাহার সহচরগণ কিছুকাল উড়িষ্যা শাসন করিয়! ছিলেন, তদস্তে মহারাজাখিরাজ মহাভব গুপ্ত রক্তবাহুর সহচরবর্গকে উড়িষ্যা হইতে বহিষ্কৃত করিয়া জনমেজয়কে উৎকল সিংহাসনে স্থাপন করিয়াছিলেন। সম্ভবতঃ জনমেজয় মগধাধিপতির জনৈক সেনাপতি ছিলেন (রাজবংশজ হুও- ক্লাই সম্ভব) এবং তাহার বাহুবলেই উড়িষ্যা রক্তবাহুর অনুচরবর্গের কবল- ্রষ্ট হইয়াছিল

জনমেঅয়ের মৃত্যুর পর তাহার পুত্র রাজ্যাধিকার প্রাপ্ত হন নাই। চৌছু- নার পুরণের তাত্রশানের মন্্ীলোচনায় অনুমিত হয় যে, জনমেজয়ের তিরোভাব যয/তির আবির্ভাব কাল মধ্যে আরও ছই তিন নরপতি উডিষ)। শাসন করিয়। গিয়াছেন, তাহারা সকলই গুপ্ত নরেস্ত্রদিগের নিযুক্ত শাসন- কর্তা ছিলেন। জনমেজয়, কন্দর্প যযাতির তাত্রশাসন পর্যালোচনা করিয়! আমরা ত২কালীন গুপ্ত রাজবংশের নিম্নলিখিত বংশাবলী সঙ্কলন কবিষাছি।

কটক। ১৭ ১। আশিবগুপত দেব।

টি টিন 2828 নিট বি রতি

২। শ্র্ীমহাভব গুপ্ত ৩। হানে রও ৪1 ্রমহাশিব গুপ্ত।

১ও নং নাম জনমেজয়ের শাসনপত্রে প্রাপ্ত হওয়া যায়। ৩'নং নাম কন্দর্প দেবের শাসন পত্রে প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে নং নাম যষা- তির তাত্রশাসনে দৃষ্ট হইয়া থাকে চৌছয়ার নগরে প্রাপ্ত তাত্রশামন পাঠে অন্গমিত হয়, মহাদেব গুপ্বের শাসনকালে কন্দর্পদেব উড়িষ্য। শাসন করিতে- ছিলেন।

কন্দর্প দেবের শাসন পত্র পাঠে বোধ হয়, এই' সনন্দ জনমেজয়ের সনদ্দ দর্শন করিম্ন( লিখিত হইক্লাছিল। মহাভব গুপ্রের মুতার পর তাহার ভাতা মহাদেব গুপ্ত জনমেজজয়েৰ পলকে রাঙ্গা প্রধান না করিয়া কন্দর্পকে উড়িষ্যার শাসন কর্তার পদে নিযুক্ত করিয়াছিলেন। কন্দর্প দেবের পর আরও ২১ জন শাসনকধ। শিযুক্ত হইয়া ছিল। কিন্তু মহাভব গুপ্তের পুত্র মহাশিব গুপ্ত রাজ্য প্রাপ্ত হইয়া যঘাতিকে উড়িধ্যার সিংহাসনে স্থাপন করিয়। ছিলেন-_-এক্প অনুমান নিতান্ত অসঙ্গত নহে।

যূযাতি কেশরী ।--পূর্বেই বলা! হইয়াছে, যে ঘধাতি জনমেজয়ের পুত্র তিনি মহারাজাধিরাঁজ মহাশিব গুধের সমসামরিক দও্ডাধীন ছিলেন।

মহারাজ| যযাতি স্বনামখ্যাত প্যযাতিপুর” মতান্তরে “যজপুর” যোজপুর) নগরী নির্মাণ করিয়া তথায় রাজপাট স্থাপন করেন। প্রবাদ অঙুসায়ে মহারাজ যযাতি আর্ধ্যাবর্ত হইতে দশ সহন্ ব্রাঙ্গণ আনন্নন পূর্বক যধাতি- পুরের চতুষ্পার্থে স্থাপন করিয়াছিলেন ।”

মকরকেশরীর সময় হইতে আমরা কটকের পরিচন্ন প্রাপ্ত হইতেছি, সুতরাং কটক যে অতি প্রাচীন সহর, তদ্বিযয়ে আর সন্দেহ নাই। তৎপর গঙ্গা বংশের সময়েও কটকের নিকটবন্তা স্থান সমূহের পরিচগ় পাওয়া যায়। এই বংশের “অনিয়ঙ্ক ভীমদেব প্রথমতঃ যাজপুর চৌছুয়ার নগরে বাষ করিতেন, পরে তিনি কটক নগরীর পশ্চিমোত্তর প্রান্তস্থিত বারবাটী নামক স্থানে রাগ প্রাসাদ নির্্ম।ণ করিস্বাছিলেন ।”*

এসি সন

দলকে বন্ধ, ৫৯ পুঠ'

১৮ অমণশ্রতাস্ত |

গঙ্গাবংশ ১১৩২ খীষ্টাবে উড়িষ্যার সিংহাসন অধিকার করেন। এই বংশের রাজ! অনিয়ঙ্ক ভীমদেব পুরীর বর্তমান মঙ্গির ১১৯৮ খীষ্টাবে নির্শাণ করেন। এই বংশের ৮ম রাজা লাঙ্গুলীয় নরদিংহ ১২৩৭ খরা হইতে ১২৮২ খ্বীষ্টাৰ পর্য্স্ত কণারকের অকুণস্তস্ত প্রতিঠিত করেন। এই বংশের উৎপত্তির সংক্ষিপ্ত ব্বিরণ কৈলাস বাবুর প্রীদাকত্হ্ম হইতে উদ্ধৃত হইল।

: “কেশরী বংশের অধঃপতনের পর গঙ্গারাট়ী অর্থাৎ তামনুকের রাজগণ উড়িয্য অধিকার করেন। ইহাদিগের মধ্যে অন্ত বর্ধা সমধিক পরাক্রম, শালী ছিলেন। কোন কোন ইতিহাঁস-লেখক ইহাকে কোলাহল নামে অভিহিত করিয়াছেন। এই অনস্ত বর্শা বিদ্ধ্যাচলে বিদ্ধ্যবাসিনী দেবী স্থাপন করিয়৷ অক্ষয় কীর্তি রাখিয়া গিয়াছেন। তিনি এই দেবী মূর্তির সেবা পুজার ব্যয় নির্ব্বাহ জন্য মহানদী তীরস্থিত দান্দি গ্রাম উৎসর্ণ করিয়াছিলেন :

এই গল্গারাঢ়ী ধংশে উত্তর কালে অহি নামে এক রাজা জন্মগ্রহণ করেন। তাহার পুত্র হ্বপ্রেখবর কন্তা সুরমা দেবী পিতার মৃত্যুর পর স্বপ্নেশ্বর উৎকলের রাজদও ধারণ করেন। তিনি প্রবল প্রতাপশালী ছিলেন। কিন্ত অপুত্রক অবস্থায় তিনি কালকবলিত হইলে তাহার ভগিনীপতি উৎকলের সিংহাসন অধিকার করেন।

উৎকল দেশের দক্ষিণ প্রান্তে চক্রবংশীয় রাজা উড়গ্গ * রাজত্ব করিতে- ছিলেন। তাহার হই পুত্র। ক্যো্ঠ শ্রীরাজরাজ দেব 1, কনিষ্ঠ অনিয়ন্কভীম দেব। শ্রীরাজরাজ দেব স্বপ্নশ্বরের ভগিনী সুরমা দেবীকে বিবাহ করিয়া- ছিলেন। স্বপ্রেশ্রের মৃত্যুর পর তিনি উৎকল সিংহাসন অধিকার করেন। কিন্তু তাহার কোন পুত্র সন্তান জন্মে নাই। স্বতরাং রাজরাজ দেবের মৃত্যুর পর তীহার ভ্রাতা অনিয়ঙ্ক ভীমদেব উৎকল সিংহাঁসনারঢ় হইয়াছিলেন (১০৯৬ শকাৰ )। উড়িয়াদিগের উচ্চারণ ক্ষমতার ন্যুনতাহেতু গ্রবল প্রতাপ গজপতি, রাজাদিগের চূড়ামণি "অনঙ্গ ভীষ* নামে ইতিহাসে পরিচিত হইয়াছেন। কিন্তু শাসন পত্রে তাহার নাম স্পত্াক্ষরে “অনিয়্ক ভীম ক্ষোদিত রহিয়াছে ।”

প্রতাপ রুড্র দেব গঙ্গাবংশের শেষ রাজা। ১৫০৪ হইতে ১৫৩২ ধীষ্টান্দ প্থ্যস্ত ইনি রাজত্ব কয়েন। চৈতন্ত দেব ইহার রাজত্ব কালে ১২ বৎসর উড়ি-

এলি ররর রি ররািরিনি ; বিকৃত নাম চৌরগক্ষ বা চৌরংদেৰ | 1 ইতিহাসে রাজেখর দেব।

ফটক। হ্যায় ধর্ প্রচার করেন এবং ১৫২৭ খ্ীষ্টান্ষে অহর্ধিত হন। এই রাজখের সময়ে তাত্রকুট নগর (বর্তমান তমলুক ) খুব সমৃদ্ধিশালী সমু্র তীরবর্তী নগর রূপে পরিগণিত হ্ইয়াছিল।

গঙ্জাবংশের পর পাঠান মোগল রাজদ্বের সময়ে ক্রমে ক্রষে কটকসমৃদ্ধি- শালী হইয়া! উঠিতে লাগিল। কাঁলাপাহাড় কর্তৃক উড়িষ্যা বিজয় হিচ্ছু দেবদেবীর অনিষ্ট সাধন চিরপ্রসিক্ধ প্রাচীন হিন্দু'রাজধানী গুলি এই লঙন্ন হইতে অপেক্ষাক্কত হীনপ্রভ হইতে লাগিল। পাঠান রাজত্বের পর মোগল রাজত্বের সময়ে রাজা তোড়লমল্প মানসিংহের দ্বারা বদিও জগন্নাখের সেবার উৎকর্ষ সাধিত হইক্লাছিল, কিন্তু ভুবনেশ্বর যাজপুরের বিশেষ কোন উন্নতি হয় নাই। মোগল রাজত্বের পর মারছাট্রাগণ উড়িষ্া! অধিকার করেন। এক হিসাবে ১৮*৪ খ্বীষ্টান্ে এবং অন্ত হিসাবে ১৮*৫ খ্বীষ্টাবে মারহাট্টাদিগের শাসন বিলুগ্ত হয়, এবং উড়িষা ব্রিটাস অধিকারভুক্ হয়। মারহাটায়া কটককেই প্রধান রাজধানী করেন। মোগল মারছাট্ট1! রাজত্ব কালেই কটকের বিশেষ শ্রীবৃদ্ধি সাধিত হয়

কটক নগর যাহার! বিশেষভাবে পরিদর্শন করিয়াছেন, তাহায়াই জানেন, কাটন্ুরী নদীর বাধ, কেল্লার ভগ্লাবশেষ, জীর্ণ মস্জিদ্‌ সমূহ, সৈষ্কাগায় প্রভৃতি কটকের প্রাচীনত্ব অতি উজ্জ্বল পরিফার ভাষায় কীর্তন করিতেছে। কাটন্ুরীর প্রস্তর-বাধ এক আশ্চর্য্য স্থষ্টি। নদীগর্ভ হইতে প্রস্তর রাশি অস্ভি স্বুকৌশলে ক্রমশঃ স্তপীককত.করিয়া, এখন স্থদৃঢ়কপে, মনুয্যের বুদ্ধি কটক সহরকে ুরক্ষিত করিয়া! রাখিয়াছে যে, বর্ধাকালে মহানদী কাটভুরীর প্রবল বন্তাজ্োতে শত শত বংসর আদ্বাত করিয়াও ইহার এক খাদি প্রস্তর স্থানাস্তরিত করিতে পারে নাই। এই সদ এবং আশ্চর্ধ্য কৌশল, নির্শিত প্রস্তর-বাধ দ্বারা যদি কটক নগরী সুরক্ষিত না! খাকিত, এতগগিন কটকের চিহ্ন পর্য্স্ত বিলুপ্ত হইত। বর্ষা কালে কটকের দক্ষিণ পশ্চিম দিকে নদীর প্রবল তরঙ্গ বহিতে থাকে কখন কখন কটকের সমতৃি হইতে জলরাশি উর্ধে আরোহণ করে। এই জলরাশিকে এই ধাধ বুক পাতিয়! বাধ! দিয়া সহরকে রক্ষা করে। উড়িষ্যার হিস্সু কীর্তির এই প্রথম লীল!। এই প্রথম লীল! দেখিয়া আমর! বিশ্ময়পূর্ণ নয়নে অশ্রু সধস্বণ করিতে পারি নাই।

মারহাট্টাদিগের সময়ের সৈষ্ভাগার কটকের দ্বিতীয়, আশ্চর্ধ্য বাঁি।

5 জমণ-বততাস্ত |

শ্রেণীবদ্ধ খিলানময় ইষ্টক নির্শিত স্থুদ্ঢ় অতি মনোরম সৈশ্তাগাঁর দেখিলে ইংরাজদের সৈম্গের ব্যারাকৃকে অতি তুচ্ছ বলিয়া মনে হয়।

' কটকের তৃতীয় দৃশ্ঠ, কেল্লা। কেল্লার সৌন্দর্য ইংরাজেরা একেবারে বিনষ্ট করিয়া ফেলিয়াছে, এখন কেল্লা বিলাসের লীলাস্থল বল-ক্রীড়ার ক্ষেত্র রূপে পরিণত। কেন্পার চতুর্দিকে পরিধা, কেল্লার মধ্যের একটা ভজনালয়, এবং ভগ্ন কামানাদি এখনও প্রাচীন বীরত্বের কাহিনী মৃছ ভাষায় কীর্তন করিতেছে কেল্লা-__মহানদী নদীর উপরে নদীর অপর তীর হইতে সৈন্তা- ক্রমণ রক্ষা করিবার এমন সুন্দর স্থান আর নাই। হৃর্ধ্যান্তের প্রাক্কালে, কেল্লার মধ্যস্থিত একটা মৃত্তিকা-স্তপের উপর দড়াইয়! ক্ষণকাঁল ভারতের নু্ড গৌরব ম্মরণ করিলাম মনে হইল, সে মৃত্তিকা স্প নয়, যেন প্রাচীন গৌরবময় বংশপরম্পরার অস্থি রাশি স্তপীকৃত হইয়। রহিয়াছে আঁহা, সেই সকল গৌরব কোথায়, আর আজ আমরা কোথায়! ১৮০৫ খবষ্টান্দে উড়িয্যা স্বাধীন ছিল, আর আজ ইংরাজ-প্রতাঁপের নিকট অবনত-মস্তক। ক্ষণ- কাল এই সকল কত কি ভাবিলাম। দিকে দুরবর্ত' পাহাড় শ্রেণীর উপর দিয়, বিষাদ-মাখা হুর্য্যকিরণ, শেষ রশ্িজাল বিস্তার করিয়া, মহানদীকে গাঢ় হইতে গাঢ়তর মলিনতায় আবৃত করিয়া, এবং আমাদিগের প্রাণকে কি এক নিরানন্দ, কি এক ব্যস্ততায় পরিপূর্ণ করিয়া নির্বাণ লাভ করিল। আমর! বাস্ত হইয়া কত কি ভাঁবিতে ভাবিতে বাড়ীর দিকে ফিরিলাম। ভারতের জন্য যে হিন্দু বংশ শেষ রক্ত দিক্াছিলেন, এবং হিন্দু রাজত্বের বাহার শেষ প্রতাপশালী রাজা, সেই চিরোজ্জল পবিভ্র বংশের কোন কৃতী এবং সন্ঘদয় ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকিয়া কয়েক দিন কটকে বড়ই বিমল আনন্দ উপভোগ করিয়াছিলাম। তীহাদের শোণিত এখনও যেন উষ্ণ, এখনও তাহাদের প্রাণ ভারত-মমতায় পরিপূর্ণ, এখনও যেন তাহারা প্রতি- ভার পূর্ণাবতার, এখনও যেন তাহারা আর্ধা-মহিমায় প্রদীপ্ত।-_আর আমরা? বংশপরম্পরার আর্ধ্যমহিমা, আর্য প্রতিভা গুণরাশি বিস্বাতিসাগরে ভাসাইয়। এখন ইংরাজ পদানত কি এক আশ্চর্য জীব! কত ভাবিলাম, কত কাদিলাম, পৃথিবীর কে তাহার সংবাদ রাখে ?

কটকের জৈনমন্দির খুব প্রাচীন না হইলেও একটা সুন্দর দৃশ্া বস্ত বটে। কটকে হিন্দু দেবদেবীর যে সকল মন্দির আছে, তন্সধ্যে গোপালক্জীর মন্দির প্রসিদ্ধ, কিন্তু তাহ! খুব প্রাচীন বলিয়া বোধ হয় না। অধিকাঁংপ

কটক। ২.

মন্দিরই পুরী ভুবনেশ্বরের মন্দিরের ছায়ায় নির্দিত। কটকের মন্দিয় সমূহ দেখিলেই উড়িব্যার হিন্দুধর্মের আধিপত্যের উজ্জ্বল পরিচয় পাওয়া ঘায়। ১৮০৫ খ্বীষ্টান্ষে উড়ভিয্যা ইংরাজ করকৰলে পতিত হয় __মহারা্ীয় বিজয় নিশানের স্থানে ব্রিটিস বৈজয়ন্তী উড্ভীন হুয়। সেই সময় হইতে কটকের বর্তমান সমৃদ্ধির হুত্রপাত। কলিকাতা যেমন বাঙ্গালার রাজ- ধানী, কটক সেইব্প উড়িষ্যার রাজধানী কট অতি বিস্তৃত স্থান ) কথায় বলে, এখানে বারাক বাজার, তিগ্লান্প গলি। বাস্তবিক, কটকের বাজারের সংখ্যা অনেক বাজার অপেক্ষ। গলির সংখ্যা! যে আরো! অধিক, সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। কিন্ত এত বড় সহরেও ভাল পুকুর নাই। সাধারণতঃ লোকের! পাতকুয়ার জল ব্যবহার করিয়া! থাকে কটকের মিউনিসিপাপিটির বন্দোবস্ত খুব ভাল বণিক! বোধ হইল না, অনেক রাস্তা এখনও মৃত্তিকা নির্মিত, পয়নালার বন্দোবস্ত ভাল হয় নাই। কটকের বাস্থু ভাল বলিয়া বহু অধিবাসী দ্বত্বেও কটক অস্বাস্কাকর হন নাই। উড়িযা| বিভাগের কমিসনারের আফিস, জঙ্গ ম্যানিস্রেটের কাছারী, মুন্েফ কাছারী কলেজ গৃহ, সমস্তই বর্তমান গৌরবের নিদর্শন কমিসনারের কাছারী মহ্থান্দীর নিকট; ম্যাজিষ্েট প্রভৃতির কাছারী কলেজের নিকট, কাটন্ুরী নদীর তীরে সংস্থাপিত। মুদ্সেফ জজের কাছারী এই উভয় কাছারীর মধ্যবর্তী স্থানে। কটকের উচ্চশ্রেণীর কলেজ, মেডিকেল স্ষুল ভিন্ন আরো ৪1৫ টা এপ্টগন্স স্কুল স্থানীয় উৎসাহী লোকদিগেক বন্ধে সংস্থাপিত হইয়াছে। তন্মধ্যে প্যারীমোহন একাডেমির নাম বিশেষ পরিচয়ের উপ- যুক্ত। ইনি নিজের শরীরের রক্ত দিয়া এই স্কুলের ভিত্তি সংস্থাপিত করেন) ইহার জন্য তাহার অজত্র অর্থ বায় হইয়াছে। তিনি অতি সংলোক উৎসাহী ব্যক্তি ছিলেন। এখন তিনি স্বর্গে, কিন্তু তাহার যত্ব-প্রযুক্ত লট এখনও চলিতেছে খীষ্ট ধর্্মাবলম্বীদিগের অনেক কীর্তি এখানে বিদ্যমান আছে। নানা শ্রেণীর ভজনালয় স্কুলাদি ভিন্ন একটা অপূর্ব কীর্তি দেখিয়া মোহিত হইলাম। হাঁজারিবাগে যেমন গবর্ণমেপ্টের একটা রিফরমেটরি আছে, এখানে সেইন্প একটী অনাথ-নিবাস (01127706) আছে। এই অনাথ-নিবাসের গৃহ বহু অর্থে নির্শিত হইয়াছে ইহা কোন সদাশয় ইংরেজের সৎকীর্তি। কটকে এরপ সুন্দর অট্টালিকা আর নাই। অনাথ বালক বালিকাদের জণ্ত খীষ্টসমাঙ্গ জগতে যে অপুর্ব্ব কার্ধ্য করিয়াছেন,

”ইই জমণ-রতাতী ))

তাহার সমতুলা কীর্তি আর কোন সমাজে দেখা ধাঁ না। এই অনাথ-বিনাস, খই 4 খনিগের ভজনালয় সমূহ, ইংরাজদিগের বসতি, এবং কেল্লার নিকটবর্তী ময়দানের 'শৈল্ত-নিবাস সমূহ দেখিলে কটককে একটী খুব সমৃদ্ধিশালী নগর বলিয়। মনে হয়। বাস্তবিক, কটক -%ফডদ পর, বাঙ্গালার যে কোন নগরের সহিত সমৃদ্ধি প্রশ্বর্যে সমকক্ষতা করিতে পারে। কটকে দেখিবার অনেক জিনিস আছে।

আমরা পুর্বে এক স্থানে বলিয়াছি,ঃবাঙ্গালায় যেমন গবর্ণমেণ্টের রেল- কীর্তি, উড়িষ্যায় সেইকপ খাল (0898) কীর্তি। উড়িষ্যার নানা বিভাগের খালসমূহ সংরক্ষণের জন্ত অনেক ইঞ্জিনিয়ার আফিস আছে। উড়িষ্যার খালকীর্তির সমতুল্য কীর্তি ভারতে অতি অন্নই আছে। খালাদি সন্বন্ধে পরে আরো কিছু বলিতে ইচ্ছা রহিল। কটকের উত্তরে মহানদী বিরূপার বীধ (41০76) দেখিয়! ইংরাজ কৌশল বুদ্ধিকে শত শত ধন্তবাদ না দিয়া থাকা যায় না। কটকের বর্তমান শোভার প্রধান আকর মহানদী। এই নদীর জলরাশি পূর্বের সাগরে বহিয়! যাইত। বাঁধ হার! এই জলরাশি আবদ্ধ থাকায় কটককে সরম সজীব করিয়! রাঁখিয়াছে। ইংরাজকীর্তি সেই সঙ্গে সঙ্গে অক্ষয় হইয়াছে। কটক প্রাচীন সময় হইতে শি্পনৈপুণ্যের অন্ত প্রসিদ্ধ এখানকার রৌপ্য-নির্টিত অলঙ্কারাদি যে কোন প্রদেশের অলঙ্কারকে শ্রেষ্ঠতায় পরাজয় করিতে পারে। কিন্ত গুনিলাম, উৎকৃ্ শিল্পীদিগের মধ্যে অনেকে বাঙ্গালী

কটকে প্রেম স্থানীয় সংবাদপত্রের অভাব নাই। কটকের প্রিন্টিং কোম্পানি প্রেসের অন্ত একটা সুন্দর বাড়ী নির্মাণ করিয়াছেন। সেই বাড়ীর দ্বিতল গৃহটা যেন সহরের সাধারণ সম্পত্তি এই স্থানে যে কেহ ইচ্ছা! করিলে বজ্তাদি প্রদান করিতে পারেন। কটকের এই সুন্দর গৃহটা ফেন কলিকাতার টাউন হলের স্তায় ব্যবহৃত ইহার অধ্যক্ষ বাবু গৌরী- শঙ্কর রায় মহাশয় অতিশয় সদাশয় ব্যক্তি। তিনি ছুই দিন বক্ততার জন্ঠ এই হল আমাদিগকে ছাড়িয়া দিয়াছিলেন। এজন তাহাকে বিশেষ ধন্ভবাদ দিতেছি।

ককের অ:%7517 মধ্যে উড়িষ্যাবামী, তেলেঙ্গা, হিনুস্থানী বাঙ্গানীই প্রধান। ইহার মধ্যে নানা জাতির লোক আছে। তেলেঙ্গা- বনতি দেখিলেই বোধ হয় যেন মাজ্জাজের অতি নিকটে আসিয়াছি।

কটক। ২৩.

দীর্ঘ কৃষ্ককাঁয়, বলবান, সাহসী তেলেঙ্গ স্ত্রী পুরুষদিগকে দেখিলে মনে অনেক পূর্বের স্থৃতি জাগিয়! উঠে। ইহারাই বাঙ্গালা উড়িব্যা বিজয্বের . ইংরাজের প্রধান অস্্র। এখনও তে বহু লোক ইংরাজ-সৈষ্ত- শ্রেমভূক্ত কটক তেলেঙগা সৈন্তের দ্বারা সুরক্ষিত। নিজের শোপিত নিজেরা পান করিতে ভারতবাসী যেমন মজ্বুত, পৃথিবীর আর কেহ তেমন আছে কিনা, জানি লী। ভারতবাসীর স্তায় শ্বদেশজ্রোহী বুঝি বা বিধাতার স্থফিতে আর নাই। উড়িষ্যাভ্রমণে যাইয়া! সমুদ্র-চর তেলেঙ্গা- দিগের সাহসের প্রশংসা না করিয়া কেহই থাকিতে পারিবেন না। বিস্ধ এমন মূর্খ এবং অজ্ঞান জাতি আর ভারতে আছে কি না, কে জানে! তবে একথ! সকলকেই শ্বীকার করিতে হইবে বে, সাহেব-সহবাসে থাকিয়া ইহার! বাহিরের সভ্যতা বথেষ্ট শিখিয়াছে।

কটকের বাঙ্গালী শ্রেণী আমাদের দেশের গৌরব বিশেষ অতিশ্ন বূরবর্তা, বান্ধব-বিহীন প্রদেশে যাইয়া ইহাদের সহ্ৃদয়তা চরিত্রের সৌন্দর্য্য দেখিয়া আমর! সুগ্ধ হইয়াছি। প্রতি নগরে, উককীল, ডেপুটী ম্যাজিষ্রেট, সুক্সেফ+ ক্কুল বা কলেজের শিক্ষক প্রভৃতিই উচ্চ শ্রেণীর লোক মধ্যে গণ্য। নেক নগর ভ্রমণ করিয়া দেখিয়াছি, এই শ্রেশীর অধিকাংশ লোক গাধারণতঃ অহঙ্কারী, অত্যাচারী, রূঢ়ভাষী, মদ্যপায়ী, বেস্তাসস্ত এবং ধর্মহীন বলিতে সক্কোচ এবং লজ্জা! হয় যে, বাঙ্গালার বড় বড় সহর গুলি মদ বেস্টার শ্রোতে যেন সদ! ভাসমান এবং আমাদের দেশের আশা ভরসা ধাহারা, সেই শিক্ষিত্যিভিমানী, উচ্চ শ্রেনীর উকীল হাকিমেরা সেই কলঙ্ক-নোতে উল্লসিত চিত্তে নিমগ্ন অনেক স্থানের এইকপ বীতৎস কাণ্ড দেখিয়। আমরা অশ্রু সম্বরণ করিতে পারি নাই। কিন্তু উড়িষ্যার রাজধানী, পুরী, কটক, বালেশ্বর উড়িয্যার সংলগু নাগপুরের রাজধানী নশাচি হাঁজারিবাগ পরিদর্শন করিয়া তত্বৎ স্থানের অধিকাংশ বাঙ্গালীর নির্মল বিশুদ্ধ চরিত্রের পরিচয় পাইয়া! আমর! বিশেষ প্রীতিলাত করিয়াছি ₹টকের বাঙ্গানী উকীলগণের মধ্যে বাবু হরিচরণ বন্যোপাধ্যায়, বাঁধু হরিবল্পভ বস্থ, বাবু নরেক্জনাথ সরকার প্রভৃতির সহিত আলাপ করিয়! তাহাদের বিশুদ্ধ নির্মল চরিত্রের পরিচয় পাইয়! গ্রীতিলাত করিয়াছি। ইরিবললত বাবু কটকের প্রধান উকীল, কিন্ত ইহার ব্যবহার চরিত্র অতি টমৎকার। বাবু নরেন্ত্র নাথ সরকার কটকেব মধ্যে খষিতৃল্য চবিত্রের

পিছ অঙণ-বৃভান্ত |

অধিকারী! কটকের বাঙ্গালী অধ্যাপকদিগের মধ্যে অধিকাংশই অতি সংলোক। কটকের মুন্সেফ বাবু মতিলাল সিংহ 'অতি মধুর প্রক্কৃতির লোক। দুরদেশে যাইয়া আমর! এরূপ সৃহদয় ব্যক্তি অতি অল্পই দেখিয়াছি। মতিবাবু কটকের বাঙ্গালীদিগের মধ্যে অমায়িকতাঁর জন্ত বিশেষ প্রসিদ্ধ সর্বত্র পুজিত। এরূপ লোক বঙ্গভূমির উজ্জ্বল রত্ব স্বরূপ বারু রাজকুষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইঞ্জিনিয়ার মহাশয় একজন ধর্ণ-পিপান্থ ব্যক্তি। ইহার সহিত অন্ন কথোপকথনেও আমরা সুখী হইয়াছি। এই সকল মহাত্বাদিগের দ্বারাই কটকে বাঙ্গালীর মহত্ব প্রতিঠিত হইয়াছে।

উৎকল-বাসীদিগের মধ্যে বাবু নন্দকিশোর দাস, বাবু মধুস্দন দাপ্‌ মহাশয়গণ আদর্শ ব্যক্তি। ইহারাই উড়িষ্যাবাসীর প্রতিভা, উচ্চ শিক্ষা এবং চরিত্রের আদর্শ স্বর্ূপ। এমন লোক নাই, ধাহার! ইহাদের ব্যবহারে সন্ত না হইয়াছেন।

উড়িষ্যাতে বহুকাল হইতে অনেক বাঙ্গালীর চিরকালের জন্ত বাড়ী নির্মাণ করিয়া বংশপরম্পর! ক্রমে বাস করিতেছেন। কোন বিজ্ঞ লোকের নিকট গুনিলাম, এই শ্রেণীর সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ চল্লিশ সহম্র হইবে উড়িয্যা এই বাঙ্গালীপিগের নিকট সভ্যতা সামাজিক বিষয়ে যে প্রভূত রূপে খণী, তৎধিষয়ে সন্দেহ নাই। কটকের বাবু রাঁধানাথ রায়, বাবু জগমোহন রায়, বাবু দীননাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এই শ্রেণীভুক্ত রাধানাথ বাবু বর্তমান সুময়ে উড়িষ্যার প্রধান কবি, ইনি স্কুল সমূহের জয়েন্ট ইনস্পেকটর। দীন বাবু কোন সরকারী কাজ করেন না। জগমোহন বাবু পুর্বে ডেপুটী ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন। এই তিন জন লোকের নিকটই আমর বিশেষ রূপ ্ণী। দীন বাবু উড়িষ্যার মঙ্গলের জন্য যে সকল সংকার্ধ্য করিয়াছেন, তাহীর তুলনা নাই। এই মহাত্মা স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া আমাদিগের কটক পরিদর্শনের অনেক সাহাধ্য করিয়াছেন। বর্তমান সময়ে ইনি কুলি-অত্যাচার নিবারণে বদ্ধ- পরিকর হইয়াছেন। এই কার্যে বাবু ললিত মোহন চক্রবর্তী তাহার প্রধান সহায় রাধানাথ বাবু উড়িষ্যার মধ্যে একজন বিখ্যাত অভিজ্ঞ বাক্তি। তাহার নির্মল চরিত্রের সংস্পর্শে, তাহার মধুর ব্যবহারে, তাহার অভিজ্ঞতার ছায়ায় থাকিয়া আমরা জীবনোন্নতি এবং উড়িষ্যা পরিদর্শন সম্বন্ধে অনেক সাহায্য লাভ করিয়াছি। আমাদের বিশ্বাস, বাধানাণ বাধ্ষ মভ লোক উড়িঙ্বাম অতি অর আছেন

কটক

জগমোহন বাবু বৃদ্ধ, কিন্তু উৎসাহের জীবস্ত অবতার এমন সৎকাজ নাই, বাহাতে তীহার সহান্থভৃতি নাই। বেন্তাদিগের পালিত মেয়েদিগকে কিন্ধপে উদ্ধার কর! বায়, বর্তমান সময়ে এই সাধু চিন্তায় ভিনি ব্যাপৃত। ইনি কটক ব্রাঙ্গ-সমাজের আদি বিভাগের একমাত্র আদর্শ